ঢাকা শুক্রবার , ৬ ফেব্রুয়ারী , ২০২৬ ,   ২৪শে মাঘ ১৪৩২ রাত

আত্মহত্যা করা ছাত্রীর জানাজায় গিয়ে প্রধান শিক্ষক বীনা দোষে মার খেয়ে হলেন রক্তাক্ত

উনিশশো একাত্তর ডেস্ক প্রকাশিত: ১১ আগস্ট , ২০২৩ , ১২:১৮ পিএম

শেয়ার করুনঃ
News Thumbnail

কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ৪/৬ জন ছাত্রী স্কুল ভবনের ছাদে বসে  সিগারেট খাচ্ছিল। উপযুক্ত প্রমাণক হিসেবে কোন শিক্ষক বা অফিসিয়ালস কর্তৃক (অভিভাবকদের মতে ভিডিও করে/ শিক্ষকদের মতে ভিডিও না করে)   প্রধান শিক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়৷

পরে শিক্ষকরা সিগারেট খাওয়া সেই ছাত্রীদের স্কুলব্যাগ রেখে দিয়েছিলেন এবং পরেরদিন অভিভাবককে নিয়ে স্কুলে আসতে বলেছিলেন।

শিক্ষকবৃন্দ  অভিভাবকদের নিয়ে স্বাভাবিক ও  গতানুগতিকভাবে তাদেরকে শাসন করেন৷ শাসনে লজ্জিত হয়ে ৪ ছাত্রীর মধ্যে ১ জন আ-ত্মহ-ত্যা করে বসে।

সোমবার বিকালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। নিহত মোছা. জিনিয়া খাতুন (১৪) ওই গ্রামের ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমানের মেয়ে। সে সুলতানপুর মাহতাবুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা চেষ্টাকারী ছাত্রীর নাম পরিচয় জানা যায়নি।

নিহত ছাত্রীর মামা জাহিদ হোসেন জানান, ‘পাঁচজন ছাত্রী বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ছাদে সিগারেট খাচ্ছিল। তার ভাগ্নি জিনিয়া সেখানে ছিল। সিগারেট খাওয়ার দৃশ্য লাল্টু ও ওয়ালিউর রহমান নামে দুই শিক্ষক এবং আয়া শিউলি খাতুন ভিডিও করেন। পরে ছাত্রীদের ডেকে এনে ব্যাপক মারপিট করেন এবং ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়াসহ টিসি দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া ও অভিভাবকদের জানানোর ভয় দেখান।

তার ভাষ্য মতে, বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়িতে ফিরে শিক্ষকদের ওপর অভিমান করে নিজ ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে জিনিয়া। মঙ্গলবার থানায় মামলা করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর ও নিহত ছাত্রীর নানা গাজীউর রহমাননউনিশশো একাত্তরকে বলেন বলেন, শিক্ষার্থীরা ভুল করতেই পারে। তাই বলে কি শিক্ষকরা এভাবে ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখাবে। তিনি শিক্ষকদের শাস্তির দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ওয়ালিউর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা করা হয়। কলটি প্রথমে ওয়েটিং দেখায়। পরে রিসিভ না করেই ফোনটি বন্ধ রাখায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, তিনি বিকালে কাজে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে এসেছিলেন। পরে একজনের মাধ্যমে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনা শুনেছেন। তার ভাষ্য, ছাত্রী তো মরেই গেছে। এখন এসব বলে কি হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কাজী এজাজ কায়সার বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পরে জানাতে পারবেন তিনি।

কুমারখালী থানার ওসি মো. আকিবুল ইসলাম বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের পর এ বিষয়ে অভিযোগের মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।

পরবর্তীতে সুলতানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ বিশ্বাস ছাত্রীর জানাজায় অংশ নিতে যান৷  সেখানে তাঁকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়।

শেয়ার করুনঃ

এই বিভাগের আরোও খবর

  • র‍্যাব-১১ এর অভিযানে ৫৬ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
    র‍্যাব-১১ এর অভিযানে ৫৬ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
  • নরসিংদী সদর থানায় আওয়ামী মটর শ্রমিক লীগের নব্য কমিটি গঠন
    নরসিংদী সদর থানায় আওয়ামী মটর শ্রমিক লীগের নব্য কমিটি গঠন
  • নাশকতার মামলায় ছাত্র শিবিরের গাবতলি মাদ্রাসার সভাপতিসহ আটক ০৬
    নাশকতার মামলায় ছাত্র শিবিরের গাবতলি মাদ্রাসার সভাপতিসহ আটক ০৬
  • রানা হত্যা মামলার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিদেশী পিস্তল গুলি সহ শুটার বল্টু ইব্রাহিম আটক
    রানা হত্যা মামলার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিদেশী পিস্তল গুলি সহ শুটার বল্টু ইব্রাহিম আটক
Logo