উনিশশো একাত্তর ডেস্ক প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারী , ২০২৩ , ১৮:৪৭ পিএম
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এক মাসে ৫২ শিশুর মৃত্যু
নোয়াখালীতেও
সারাদেশের মতো বেড়েছে শীতের তীব্রতা। ঠান্ডাজনিত রোগও বেড়েছে শীতের সঙ্গে। তাতে শিশুরা
বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বয়স্কদের তুলনায়। এতে চরম ভোগান্তি পর্যায়ে ঠেকেছে অভিভাবকরা।
যেসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা ঠান্ডা-কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, ভাইরাস
ও ডায়রিয়ায়। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে গত ১ মাসে (ডিসেম্বরে) ৫২
শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশই ঠান্ডাজনিত রোগের কারন।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের শনিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে
সরেজমিনে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ডায়রিয়া ওয়ার্ড ও শিশু ওয়ার্ড রোগীতে
ভরপুর। চার মাস বয়সি শিশু ফাহিমকে তৃতীয় তলার শিশু ওয়ার্ডে ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার
কারণে ভর্তি করা হয়েছে। শিশু ফাহিমের নিউমোনিয়া হয়েছে বলে হাসপাতালের রেজিস্ট্রার
সূত্রে জানা যায় পার্শ্ববর্তী জেলা লক্ষীপুরের মৌলভীরহাট থেকে আসে। তার রক্তে
অক্সিজেনের লেভেল কম থাকায়, নেবুলাইজ ব্যাবহার করে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার
চেষ্টা করা হচ্ছে। হাতে ক্যানুলা করে দেওয়া হয়েছে ইনজেকশন, স্যালাইন পুশ করতে।
শিশু ফাহিমের মা ফাতেমা বলেন, ‘ঠান্ডা-কাশি সর্দি, শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায়
প্রথমে লক্ষ্মীপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা
তকে এখানে পাঠান। এখানে আসার পর নিউমোনিয়া হয়েছে জানিয়ে শিশু ফাহিমকে ভর্তি করা
হয়। এখানে তারা ভর্তি গত ৬ দিন থেকে। এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেনি ছেলে।’
একই ওয়ার্ডে ভর্তি আড়াই বছর বয়সী শিশু মাহবুবুর রহমানের মা খালেদা আক্তার বলেন, 'জন্মগতভাবে ঠান্ডাজনিত রোগের সমস্যা আমার ছেলের। সে অসুস্থ হয়ে যায় সামান্য ঠান্ডা লাগলেই। গত মাসে তার সর্দি, কাশি, জ্বর নিয়ে এখানে ভর্তি ছিলাম ১৬ দিন ধরে। তারপর আমরা বাড়ি নিয়ে যাই অনেকটা সুস্থ হলে। আমরা পুনরায় তাকে এখানে ভর্তি করাই বাড়িতে গিয়ে ৭ দিনের মাথায় আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে। গত ৬ দিন থেকে সে এখানে চিকিৎসাধীন।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশু-বৃদ্ধসহ মোট ১৪৪ জনের মৃত্যু হয় গত মাসে এই
হাসপাতালে বিভিন্ন রোগে। যার মধ্যে শূন্য থেকে ৪ বছর বয়সী ৫১ জন এবং ৫ থেকে ১৪ বছর
বয়সী ১ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে ৪৬জন রয়েছে। এদের অধিকাংশ
ঠান্ডাজনিতসহ বিভিন্ন রোগে মৃত্যু হয়েছে।
গত ডিসেম্বর মাসে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৯২৭ জন ভর্তি
হয়েছে। গত ৭ দিনে ১২৯ জন শিশু ভর্তি হয়েছে যার মধ্যে৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন
শিশু ওয়ার্ডে ৪০ থেকে ৫০ জন ভর্তি হয় বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ড থেকে জানা যায়, গত ডিসেম্বরে
সেখানে ৯৫০ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। যাদের অধিকাংশ ছিল শিশু। এছাড়া গত ৭ দিনে
১০৯ জন রোগী এ ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। শনিবার (৭ জানুয়ারি) বিকাল পর্যন্ত এ ওয়ার্ডে মোট
৪০ জন ভর্তি ছিল যার মধ্যে ৩৮ জনই শিশু রোগী।
৩য় তলার শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স
আকলিমা আক্তার বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করি সব রোগীকে সমান সেবা দিতে। শিশুদের সেবা
দিতে আরও বেশি সময় প্রয়োজন হয়। তবে আমাদের অনেক হিমশিম খেতে হয় আমাদের নার্স
সংকটের কারণে অনেক সময়। কখনও ১টি শিশুর অবস্থা বেশি খারাপ হয়ে গেলে তার পেছনে একজন
নার্সকে কাজ করতে হয়। আরও নার্স বাড়ানো প্রয়োজন শিশু ওয়ার্ডে।’
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগের কনসালটেন্ট
ডা. ইয়াকুব আলী মুন্সি বলেন, শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে শীতের শুরু থেকে। আমরা
তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করি আমাদের হাসপাতালে শিশুদের ভর্তি করানোর পর। বাড়ি
ফিরে যায় অধিকাংশ শিশু সুস্থ হয়ে। তবে শীতকালে শিশুদের যাতে তাদের গায়ে ঠান্ডা না
লাগে এ ব্যাপারে অভিভাবকদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে।’
শিশু ওয়ার্ডে জনবল সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.
হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এই হাসপাতালে অনেক রোগীর সেবা দিতে হয়। এত রোগীর সামাল দিতে
স্বাভাবিকভাবেই আমাদের ডাক্তার, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল আরও প্রয়োজন।’