ঢাকা শুক্রবার , ৬ ফেব্রুয়ারী , ২০২৬ ,   ২৪শে মাঘ ১৪৩২ রাত

আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ

উনিশশো একাত্তর ডেস্ক প্রকাশিত: ৭ মার্চ , ২০২৩ , ২৩:৩২ পিএম

শেয়ার করুনঃ
News Thumbnail

আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ।


এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, 'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এদিন লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশা আল্লাহ।’


১৯৭১ সালের ৭ মার্চ জাতির জনকের ঐতিহাসিক ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করতে দেয়নি তখনকার পাকিস্তান সরকার। কিন্তু পরদিন বিভিন্ন পত্রিকায় তা ফলাও করে প্রকাশিত হয়। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু মঞ্চে আসেন বেলা ৩টা ২০ মিনিটে। বঙ্গবন্ধুর তৎকালীন একান্ত সহকারী জনাব তোফায়েল আহমেদ ও বঙ্গবন্ধুর চার খলিফা বলে খ্যাত স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পারিষদের চার নেতা জনাব আবদুল কুদ্দুস মাখন, জনাব নূরে আলম সিদ্দিকী, জনাব শাহজাহান সিরাজ, জনাব আ স ম আবদুর রব এবং যুবলীগ এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জনাব শেখ ফজলুল হক মণি বঙ্গবন্ধুর গাড়ি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এ প্রবেশ করার পর ওনাকে পাকিস্তানি সেনাদের সামনে দিয়ে মঞ্চে নিয়ে আসেন। মঞ্চে উঠেই তিনি জনতার উদ্দেশে হাত নাড়েন। তখন পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান লাখ লাখ বাঙালির কণ্ঠে ‘তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ, তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’ ধ্বনিত হয়। বঙ্গবন্ধু দরাজ গলায় তাঁর ভাষণ শুরু করেন, ‘ভাইয়েরা আমার, আজ দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি...।’


বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সর্বশেষ দুটি বাক্য, যা পরবর্তীতে

বাঙালির স্বাধীনতার চূড়ান্ত লড়াইয়ের

দিকনির্দেশনা ও প্রেরণার হাতিয়ারে পরিণত

হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত

আরো দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব,

ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির

সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

জয়বাংলা।'


১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু সামরিক শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগ তথা বাঙালিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। জবাবে ক্ষুব্ধ বাঙালি রাজপথে নেমে আসে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তা, জাতীয়তাবোধ ও জাতিরাষ্ট্র গঠনের যে ভিত রচিত হয়, তারই চূড়ান্ত পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ দেন। ছাত্র-কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের বাঙালি নতুন প্রেরণা খুঁজে পায়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে বাঙালি জাতি। বিশ্বমানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।


জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেসকো এ ভাষণকে ৩০ অক্টোবর ২০১৭ বিশ্ব–ঐতিহ্য সম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’–এ অন্তর্ভুক্ত করেছে।

 

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং সেই সভায়

উপস্থিত থাকা তোফায়েল আহমেদ একটি নিবন্ধে

বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু তার চশমাটা সেদিন ডায়াসের

ওপর রেখে যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তার পুরোটাই

অলিখিত। একদিকে তিনি পাকিস্তানিদের প্রতি চার

দফা শর্ত আরোপ করলেন, অন্যদিকে ঘরে ঘরে দুর্গ

গড়ে তুলতে বললেন। ভাতে মারার কথা বললেন,

পানিতে মারার কথা বলেন।'

শেয়ার করুনঃ

এই বিভাগের আরোও খবর

  • আবারও ডিমের বাজার গরম
    আবারও ডিমের বাজার গরম
  • আজ এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা
    আজ এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা
  • শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি
    শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি
  • পুলিশ আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত
    পুলিশ আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত
Logo